দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

সংযুক্ত আরব আমিরাতে (ইউএই) রাষ্ট্রায়ত্ত জনতা ব্যাংক পিএলসির কার্যক্রম গুটিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। ব্যাংকটির মূলধন ঘাটতি পূরণে ঢাকা থেকে পাঠানো ৮ কোটি ১৬ লাখ ৮০ হাজার মার্কিন ডলারের তহবিলের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক। একই সঙ্গে ব্যাংকটির কার্যক্রম গুটিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়া তদারকিতে একজন প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
ব্যাংকটির পর্ষদ চেয়ারম্যান ড. এম ফজলুর রহমানের সই করা একটি দাপ্তরিক চিঠিতে এসব তথ্য উঠে এসেছে। চিঠি অনুযায়ী, সংযুক্ত আরব আমিরাতের কেন্দ্রীয় ব্যাংক (সিবিইউএই) অডিট ও পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ক্রাউ ইউএইকে প্রশাসকের দায়িত্ব দিয়েছে। গত ৭ অক্টোবর ইমেইলের মাধ্যমে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়। নিয়োগ কার্যকর হয় ৮ অক্টোবর থেকে।
নথি অনুযায়ী, আমিরাতে জনতা ব্যাংকের শাখাগুলোর মূলধন ঘাটতি পূরণে ঢাকা প্রধান কার্যালয় থেকে ৩০ কোটি দিরহাম, যা প্রায় ৮ কোটি ১৬ লাখ ৮০ হাজার মার্কিন ডলারের সমপরিমাণ, পাঠানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। তবে নিয়ন্ত্রণমূলক শর্তাবলি পরিপালনে ব্যর্থতার কারণ দেখিয়ে সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে আমিরাতের কেন্দ্রীয় ব্যাংক। একই সঙ্গে শাখাগুলোর কার্যক্রম গুটিয়ে নেওয়ার আগের সিদ্ধান্তেও অটল থাকে সংস্থাটি।
পরিস্থিতি নিয়ে গত ৬ অক্টোবর জনতা ব্যাংকের ৯০৪তম পর্ষদ সভায় আলোচনা হয়। ব্যাংকের নথিতে বলা হয়েছে, আমিরাতের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী, পাঠানো অর্থ নিউইয়র্কে স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকে জনতা ব্যাংকের নস্ট্রো হিসাবে স্থানান্তর করা হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশনা না পাওয়া পর্যন্ত ওই অর্থ ব্যবহার না করতে ব্যাংকের ট্রেজারি বিভাগকে বলা হয়েছে।
এ ছাড়া কার্যক্রম গুটিয়ে নেওয়া ও প্রশাসক নিয়োগের বিষয়টি অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ, অর্থ বিভাগ এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়েছে।
১৯৭৪ সাল থেকে সংযুক্ত আরব আমিরাতে কার্যক্রম পরিচালনা করছে জনতা ব্যাংক। দেশটিতে ব্যাংকটির চারটি শাখা ও একটি প্রধান নির্বাহীর কার্যালয় রয়েছে। শাখার সংখ্যার দিক থেকে এটি দেশটিতে দ্বিতীয় বৃহত্তম বিদেশি ব্যাংক বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
বর্তমানে আমিরাতে জনতা ব্যাংকের প্রায় ৭০ হাজার আমানতকারী ও ৩ হাজার ৮০০ ঋণগ্রহীতা রয়েছেন। ব্যাংকটির সেবা নেন আনুমানিক ১০ লাখ প্রবাসী বাংলাদেশি। এ নেটওয়ার্কের মাধ্যমে প্রতিবছর বাংলাদেশে ৮ হাজার থেকে ১০ হাজার কোটি টাকার রেমিট্যান্স আসে বলে সংশ্লিষ্ট নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
ব্যাংকটির সংকটের সূত্রপাত ২০২১ সালে। সে সময় আমিরাতের কেন্দ্রীয় ব্যাংক বিদেশি ব্যাংকগুলোর ন্যূনতম মূলধনের সীমা ৪ কোটি দিরহাম থেকে বাড়িয়ে ৪০ কোটি দিরহাম নির্ধারণ করে। বিপরীতে জনতা ব্যাংকের পরিশোধিত মূলধন ছিল ১০ কোটি দিরহাম এবং অবণ্টিত মুনাফা ছিল ৮ কোটি ৩০ লাখ দিরহাম। ফলে নতুন নির্ধারিত সীমার তুলনায় ব্যাংকটির মূলধন উল্লেখযোগ্যভাবে কম ছিল।
দীর্ঘ সময়েও ঘাটতি পূরণ করতে না পারায় গত ৮ জুলাই জনতা ব্যাংকের রিজার্ভ হিসাবের ডেবিট লেনদেনে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে আমিরাতের কেন্দ্রীয় ব্যাংক। পরে তিন বছরের মধ্যে দেশটিতে ব্যাংকটির কার্যক্রম গুটিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।
নতুন করে অর্থ পাঠানোর প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান এবং প্রশাসক নিয়োগের ফলে আমিরাতে জনতা ব্যাংকের কার্যক্রম গুটিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়া আরও এগিয়েছে। এতে ব্যাংকটির ওপর নির্ভরশীল প্রবাসী গ্রাহকদের ব্যাংকিং সেবা এবং বাংলাদেশে রেমিট্যান্স পাঠানোর ধারাবাহিকতা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।